জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এ খাতটি বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেন তিনি।
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘টাস্কফোর্সের সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার নয়, বরং বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসা উচিত। তবে এর জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর খাতের বাজার ৬০০ বিলিয়ন ডলারের হলেও বাংলাদেশ এ খাতে আয় করছে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার। এ পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নেতৃত্বে গত ১ জানুয়ারি গঠিত হয় জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্স। প্রতিবেদনে মোট ২৩টি সুপারিশ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে নয়টি দক্ষতা উন্নয়ন, সাতটি বৈশ্বিক সংযোগ এবং সাতটি নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রত্যেক সুপারিশ কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থার দায়িত্বে পড়বে, কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিডার চেয়ারম্যান জানান, ‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। এখন বল প্রধান উপদেষ্টার কোর্টে।’
সেমিকন্ডাক্টর খাতটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এখানে কর্মসংস্থানের ধরনও ভিন্ন হবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘১ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস শিল্পে যেখানে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হয়, সেখানে সেমিকন্ডাক্টর খাতে একই আয়ের জন্য এত কর্মী প্রয়োজন হবে না। কারণ সফটওয়্যার ও ডিজাইন থেকে উচ্চমাত্রার ভ্যালু অ্যাড হবে ।’
টাস্কফোর্সের সদস্য এবং বুয়েটের ইইই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এবিএম হারুন-উর-রশিদ জানান, বছরে পাঁচ-ছয় হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। সম্মেলনে টাস্কফোর্সের তিন সদস্য কথা বলেন। এ শিল্পের জন্য কর ছাড়, বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সরকারের তরফে এ শিল্পের জন্য তহবিল তৈরির সুপারিশের কথা তুলে ধরেন তারা।
টাস্কফোর্স গঠনের সময় সদস্য হিসেবে ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, উল্কা সেমির সিইও মো. এনায়েতুর রহমান, প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইশতাক আহমেদ, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জব্বার, বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এবিএম হারুন-উর-রশিদ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কোয়েস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাশুক রহমান, সিলিকন ভ্যালির সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজ চৌধুরী, আইডিএফের জহিরুল আলম। এ টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিডার বিজনেস ডেভেলপমেন্টর প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি।